মুসলিমরা মার্ খাচ্ছে কেন?

মুসলমানদের উপর চলছে ইহুদী, নাসারা, বৌদ্ধ, মুশরিক, হিন্দু ও কমিউনিষ্ট সহ সকল কুফুরী শক্তির ভয়াবহ আগ্রাসন। আজ জ্বলছে সিরিয়া- ইরাক – ইয়েমেন, পুড়ছে কাশ্মীর-ফিলিস্তীন, কাঁদছে আরাকান – আফগানিস্তান। মুসলিমদের রক্তে রঞ্জিত ভূখন্ডে কোনোদিক থেকেই আল্লাহর মদদ আসছেনা! এক কথায়, আমরা ঘরে – বাহিরে সব জায়গায় যুলমের শিকার! কেন আমাদের এমন করুণ পরিণতি? কি তাহলে আমাদের অপরাধ!?

উত্তর একটাই, আল্লাহ প্রদত্ত শরীয়াহ’র বিধানাবলী পালনে আমাদের চরম উদাসীনতা, দুনিয়ামুখীতা, পাপাচারে জড়িয়ে পড়া এবং জিহাদ বিমুখী মনোভাবই এই মহা দুর্যোগের অন্যতম কারণ। এ প্রসঙ্গে প্রিয়নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন ,

يُوشِكُ الْأُمَمُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمْ كَمَا تَدَاعَى الْأَكَلَةُ إِلَى قَصْعَتِهَا، فَقَالَ قَائِلٌ: وَمِنْ قِلَّةٍ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ؟ قَالَ: بَلْ أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ كَثِيرٌ، وَلَكِنَّكُمْ غُثَاءٌ كَغُثَاءِ السَّيْلِ، وَلَيَنْزَعَنَّ اللَّهُ مِنْ صُدُورِ عَدُوِّكُمُ الْمَهَابَةَ مِنْكُمْ، وَلَيَقْذِفَنَّ اللَّهُ فِي قُلُوبِكُمُ الْوَهْنَ، فَقَالَ قَائِلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا الْوَهْنُ؟ قَالَ: حُبُّ الدُّنْيَا، وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ

“অচিরেই বি-জাতিরা তোমাদের বিরুদ্ধে সেভাবেই একত্রিত হবে; যেভাবে খাদ্য গ্রহণকারীরা খাবারের পাত্রের চতুর্দিকে একত্র হয়।

জৈনক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! সেদিন আমরা সংখ্যায় কম থাকায় কি এমন হবে? 
তিনি বললেন, ‘বরং তোমরা সেদিন সংখ্যায় অনেক হবে; কিন্তু তোমরা হবে স্রোতের আবর্জনার মতো। 
আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের শত্রু-হৃদয় থেকে তোমাদের ভয় কেড়ে নেবেন এবং তোমাদের অন্তরে ‘অহান’ ঢেলে দেবেন।’

জৈনক প্রশ্নকারী জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, ‘অহান’ কী? জবাবে তিনি বললেন, ‘দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং মৃত্যুর ভয়’। — [ সুনান আবূ দাউদ : ৪২৯৭; মুসনাদে আহমাদ : ২২৩৯৭ ]
.

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলেছেন –

عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه : أَنَّ رَسُولَ الله ﷺ، قَالَ: «بَادِرُوا بِالأعْمَال فتناً كَقِطَعِ اللَّيْلِ المُظْلِمِ، يُصْبحُ الرَّجُلُ مُؤْمِناً وَيُمْسِي كَافِراً، وَيُمْسِي مُؤمِناً ويُصبحُ كَافِراً، يَبيعُ دِينَهُ بعَرَضٍ مِنَ الدُّنيا». رواه مسلم

“তোমরা অন্ধকার রাতের টুকরোসমূহের মত (যা একটার পর একটা আসতে থাকে এমন) ফিতনাসমূহ আসার পূর্বে নেকীর কাজ দ্রুত করে ফেল। মানুষ সে সময়ে সকালে মুমিন থাকবে এবং সন্ধ্যায় কাফের হয়ে যাবে অথবা সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে এবং সকালে কাফের হয়ে যাবে। নিজের দ্বীনকে দুনিয়ার সম্পদের বিনিময়ে বিক্রয় করবে। 
— [মুসলিম : ১১৮, তিরমিযী : ২১৯৫, আহমাদ : ৭৯৭০, ৮৬৩১, ৮৮২৯]

.
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলেছেন –
“যখন তোমরা বাইয়ে-ঈনা (এক প্রকার সুদী কারবার) করবে এবং গরুর লেজ ধারণ করবে, চাষাবাদ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে (অর্থাৎ দুনিয়াকে আখেরাতের উপর প্রাধান্য দিবে) এবং জিহাদ বর্জন করবে, তখন তোমাদের উপর লাঞ্ছনা, অপমান চাপিয়ে দেয়া হবে যতক্ষণ না তোমরা দীনের দিকে প্রত্যাবর্তন করবে।”
—— [ সুনানে আবূ দাউদ : ৩৪৬৪ ]

.
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলেছেন –
“আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি : যতদিন তোমরা এ দু’টিকে আঁকড়ে ধরবে ততদিন তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো কিতাবুল্লাহ তথা আল্লাহর কিতাব আর অন্যটি হলো আমার সুন্নাত।”
—– [ মুআত্ত্বা মালেক : ১৫৯৪ ]
.

প্রিয় পাঠকবৃন্দ! একথা চিরন্তন সত্য যে, ক্বুরআন – সুন্নাহকে মযবূতভাবে আঁকড়ে না ধরার কারণে আমাদের মাঝে ভ্রষ্টতা এসেছে। অত:পর পথভ্রষ্টতার কারণে আমরা দ্রুত বেগে ছুটে চলেছি পাপ-পঙ্কিলতার অভিশপ্ত পথে। যারফলে আমাদের দিকে ধেঁয়ে এসেছে আসমানী গযব ও ভয়ংকর বিপদাপদ। তাই আসুন বর্তমান অধঃপতন থেকে উত্তরণ ও জুলুম-নির্যাতনের অবসানের জন্য এখনই আল্লাহর দ্বীনকে আকড়ে ধরি, এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে সচেষ্ট হই।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আমাদেরকে সেই তাওফীক্ব দান করুন । [ আ-মীন ]

.

Leave a Comment